ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার রুচির ঔষধ ও ৯.৯৯% কার্যকারী রেমেডি

সচেতন অনেক মা বাবাই চিন্তিত শিশুর খাবার নিয়ে, ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার রুচির ওষুধ, ভিটামিন, খাবার, রেমেডি, ইত্যাদি বিষয়ে লিখা হয়েছে এই আর্টিকেলে ছোট বাচ্চাদের খাবার রুচির সমস্যা সমাধানের জন্য সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

image

সূচিপত্র: ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার রুচির ঔষধ

নিচের যে অংশ থেকে পড়তে চান ক্লিক করুন

আমরা প্রায় সকলেই ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার রুচি এবং স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত। ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার রুচির ঔষধ, ভিটামিন এবং খাবার সহ প্রয়োজনীয় পয়েন্টগুলো যেমন খাবারে অরুচির কারণ, মুখে রুচি ফেরাতে কি করবেন, ক্ষুধা বাড়ানো, জিংক সিরাপ, রেমেডি প্রত্যেকটা বিষয় একটা একটা করে জানবো।

শিশুর খাবারে অরুচির কারণ কি?

ছোট বাচ্চাদের খাবার অরুচির জন্য বাবা-মাকে নানান সমস্যা সম্মুখীন হতে হয়। শিশু শারীরিক বৃদ্ধি বাধা পাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ইত্যাদি। অধিকাংশ এসব কিছু হয়ে থাকে শিশুর খাবারের জন্য।

শিশুর/ছোট বাচ্চাদের খাবার অরুচি হওয়ার কারণগুলো হলো;

  • জিংক এর অভাব
  • লাইসিন অ্যামিনো অ্যাসিড
  • ভিটামিন D, ভিটামিন C, ভিটামিন B-12
  • কৃমির জন্য, এবং মন্দ অভ্যাস
  • আয়রনের অভাব
  • জন্মগত ত্রুটি
  • পেটে গ্যাস

সাধারণত এইসব কারণেই ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার রুচি কমে যায়। আপনারা পয়েন্টগুলো পড়েন হয়তো বুঝতে পারছেন আপনার পরবর্তী কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আপনি সমস্যা শনাক্ত করতে পারলেন সেই সমস্যার সমাধান করা অনেকটা সহজ হয়।

আপনার বাচ্চার খাওয়াতে রুচি নাই, জিংকের অভাব, ভিটামিনের অভাব এখন সমাধান কি? সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি খাবারের মাধ্যমে আপনার শিশুর পুষ্টি চাই না পূরণ করতে পারেন। সেজন্য আপনাকে খাবার এবং পুষ্টি সম্পর্কে জানতে হবে।

আপনার ছোট বাচ্চার জিংকের ঘাটতির জন্য মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, বাদাম, ( যেকোনো গরু, হাঁস, মুরগি ইত্যাদির) কলিজা, এগুলো থেকে জিংক পাওয়া যায়। ভিটামিন B-12 মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, রঙ্গিন শাকসবজিতে ভিটামিন B-12 পাওয়া যায়। লাইসিন অ্যামিনো অ্যাসিড চাল এবং ডালে লাইসিন অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায় আপনারা চাইলে খিচুড়ি করতে পারেন তাহলেই লাইসিন অ্যামিনো অ্যাসিড পেয়ে যাবেন।

ভিটামিন D পাওয়ার জন্য সহজ উপায় হয়তো আপনার অনেকেই জানেন সূর্যের আলো, আপনারা চেষ্টা করবেন সকালে ১৫-২০ মিনিট সূর্যের আলোতে রাখতে আপনার সন্তানকে রাখতে। এবং চেষ্টা করবেন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল বা সবজি খাওয়ানোর। কৃমির এবং মন্দ অভ্যাস, কৃমির জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে কৃমির ওষুধ খাওয়াবেন এবং বাচ্চাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শিখাবেন।

শিশুর মুখে রুচি ফেরাতে কি কি করবেন?

ছোট বাচ্চাদের মুখে রুচি ফেরানোর জন্য অরুচির কারণগুলো জানতে হবে কেননা প্রতিটি ছোট বাচ্চার মুখের স্বাদ ভিন্ন। সাধারণত ছোট বাচ্চাদের ৬ মাস বয়স পর্যন্ত রুচি নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। কারণ তখন তারা মায়ের বুকের দুধ খায়, যখন বাড়তি খাবার শুরু করে তখন খাবার না খাওয়ার কারণে মায়েরা শিশুর মুখে রুচি নিয়ে চিন্তা করে।

অল্প অল্প করে বাড়তি খাবার শুরু করুন মাছ মাংস সবজি এগুলো লবণ তেল মসলা বাদে শিশুকে খেতে দিন এবং লক্ষ্য করুন শিশু কোন খাবার খেতে আগ্রহ পোষণ করছে যে খাবার খেতে আগ্রহ পোষণ করছে সে খাবার বেশি বেশি খেতে দেন। এবং আস্তে আস্তে শিশুর বাউস বার্তির সাথে সাথে লবণ তেল মশলা গুলো যুক্ত করবেন।

ছোট বাচ্চাদের খাবারে রুচি অনতে করণীয়, ছোট বাচ্চার পছন্দের খাবারগুলো বের করার চেষ্টা করুন এবং সেই খাবার গুলো তাকে খেতে দেন কিন্তু খেতে না চাইলে খাবার জন্য জোর জবরদস্তি করবেন না। ছোট বাচ্চাকে খেলার সুযোগ করে দেন দৌড়াদৌড়ি করলে ক্ষুধা লাগবে এবং ক্ষুধা লাগলে খাবার অরুচি থাকলেও খাবার খাবে। পরিবারের সদস্য গুলো শিশুকে নিয়ে একসঙ্গে খাবার খেতে বসুন এতে শিশু খাবার গ্রহণের আগ্রহ জাগবে।

ছোট বাচ্চার সাথে মজা করুন এবং তাকে বলুন খাবার খেলে কি হয়, তুমি খাবার খেলে তোমাকে এটা দিব ওটা দিব ইত্যাদি এভাবে খাবার খেতে উৎসাহিত করুন। শিশুকে চিবিয়ে চিবিয়ে খেতে বলুন এবং সময়মতো ঘুম দেওয়ার চেষ্টা করুন। ছোট বাচ্চাদেরকে যতটা সম্ভব বাইরের খাবার কম খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।

ছোট বাচ্চাদের ক্ষুধা বাড়ানোর খাবার

ছোট বাচ্চার ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য কিছু খাবার রয়েছে, আপনার হয়তো অনেকেই জানেন। ক্ষুধা বৃদ্ধির জন্য মা-বাবাকে খাবারগুলো কি? তা জানা দরকার চলুন খাবার গুলো কি তা জেনে নিই।

  • কুমড়ার বীজ
  • গাজর
  • আদা ও তুলসী
  • তেতুল
  • আমলকি
  • দারুচিনি
  • লেবু
  • দই
  • অষ্টচূর্ণম

এই খাবারগুলো শুধু ক্ষুধা বাড়াবে এমনটা না, সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে এবং শরীরে পুষ্টি যোগান দিবে ছোট বাচ্চাদের জন্য পুষ্টিকর খাবার খুবই জরুরী আপনারা এই খাবারগুলো যেটা যেভাবে সম্ভব সেটা সেভাবে খাওয়াবেন যেমন কুমড়ার বীজ গুড়ো করে খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন, তেতুলের চাটনি করে বাচ্চাদেরকে খাওয়াবেন, দই সরাসরি খাওয়াতে পারেন, এইভাবে খাবারগুলো আপনার বাচ্চাকে খাওয়াবেন ইনশাআল্লাহ আপনার বাচ্চার খাওয়ার রুচি বাড়বে।

জিংক সিরাপ খেলে কি শিশুর রুচি বাড়ে? (রুচির ঔষধ)

অনেক মা-বাবার প্রশ্ন জিংক সিরাপ খেলে কি শিশুর রুচি বাড়ে? জিংকের অভাবে শিশুর অরুচি হয়। কিন্তু জিংক সিরাপ না খাইয়ে খাবারের মাধ্যমে জিংকের অভাব পূরণ করা উত্তম এবং শিশুর জন্য ভালো। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, বাদাম, হাঁস মুরগির কলিজা এসব খাবার থেকে প্রচুর পরিমাণে জিন পাওয়া যায়।

শিশুর জিংকের অভাব পূরণের জন্য এই খাবারগুলো খাওয়াতে পারেন এবং শিশুর ডায়রিয়া সহ অন্য সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শে জিংক সিরাপ খাওয়াতে পারেন সাথে ভিটামিন বি যোগ করতে পারেন।

জিংক সিরাপ খাওয়ালে শিশুর রুচি বৃদ্ধি হয় সেজন্য দীর্ঘ সময় জিংক সিরাপ খাওয়ালে অন্য সমস্যা হতে পারে সেজন্য আপনারা চেষ্টা করবেন খাবারের মাধ্যমে জিংকের অভাব পূরণ করার। প্রতিদিনের খাবার থেকে যথেষ্ট পরিমাণে আপনার বাচ্চার জিংকের অভাব পূরণ করতে পারবে।

বাচ্চাদের মুখের রুচি বাড়ানোর উপায় - ৯.৯৯% কার্যকারী রেমেডি

বাচ্চাদের মুখে রুচি বাড়ানোর জন্য একটি রেমেডি আছে এই রেমেডিটি অনেক কার্যকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত খুব অল্প পরিশ্রমেই জিরা আর মৌরি মাধ্যমে রেমেডিটি তৈরি করতে পারবেন। নিচের চিত্রটির দিকে লক্ষ্য করুন।

image

রেমেডিটি তৈরি করার জন্য

  1. এক চামচ জিরা এবং এক চামচ মৌরি মেপে নিন
  2. জিরা এবং মৌরি গুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন
  3. এরপর ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন
  4. এক গ্লাস পানিতে জিরা এবং মৌরি গুলো দিয়ে দিন
  5. হালকা তাপে সিদ্ধ করে জিরা এবং মৌরি গুণাগুণ গুলো বের করে নিতে হবে
  6. এক গ্লাস পানি যখন হাফ গ্লাস হয়ে যাবে এবং পানির রং চেঞ্জ হয়ে যাবে তখন একটি পাত্রে ছেঁকে নিন

এখন এই রেমেডিটি আপনার শিশুকে খাওয়ানোর জন্য তৈরি। আপনার সন্তানের মুখে রুচি বৃদ্ধির জন্য এই রেমেডিটি অনেক কার্যকর সেজন্য চেষ্টা করবেন রেমিডিটি তৈরি করে আপনার শিশু খাওয়ানোর।

রেমেডিটি খাওয়ানোর পরিমাণ ৬ মাস থেকে ১ বয়সের বাচ্চাদেরকে দুই চা চামচ করে সপ্তায় দুইবার। এক বছর থেকে তিন বছর বয়সের বাচ্চাদেরকে দুই টি-টেবিল করে করে সপ্তায় দুইবার এবং তিন বছর প্লাস বাচ্চাদেরকে ছোট কাপে এক কাপ করে সপ্তায় দুইবার। এইভাবে ধারাবাহিক ৩০ দিন ট্রাই করুন ভালো একটি রেজাল্ট পাবেন ইনশাআল্লাহ।

উপসংহার - শেষ কথা

ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার রুচি ওষুধ সহ বিভিন্ন উপায় খোঁজ করেন। কি করলে আমার সন্তানের মুখে রুচি ফিরে আসবে এবং মানসিক শারীরিক বিকাশ ঘটবে। সচেতন মা-বাবার জন্য এই আর্টিকেলটি বাচ্চাদের রুচির সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ধন্যবাদ-Thanks

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
Comment মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আর আইটি ফার্মের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url